৫৭ ধারা আইন নিপাত যাক, মুক্তমনারা

0
13

মোস্তাফিজুল আবেদীন

২০১৭ সালের ১৭ই জুন ফেইসবুকে সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ নিয়ে শফিকুল ইসলাম নামের এক উগ্র সেটেলার বাঙালী খাগড়াছড়ি সদর থানায় ৫৭/২ ধারার আইনে মুক্তমনা লেখক, ব্লগার ও বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার “ইমতিয়াজ মাহমুদ” স্যারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, তেমন একটা ফায়দা লুঠানো সম্ভবপর হয়নি উগ্রবাদীদের। তারই প্রেক্ষিতে আজ সকালে আবার সেই পুরোনো ৫৭ ধারার নামে যে কালো আইন আওয়ামীলীগ সরকার কতৃক সৃষ্ট করা হয়েছিলো, সে আইনে “ইমতিয়াজ মাহমুদ” স্যারকে গ্রেফতার করেছে বনানী থানা পুলিশ।এমনকি স্যারের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেওয়ার পায়তারাও করা হচ্ছে বলে জানতে পারলাম।

“ইমতিয়াজ মাহমুদ” স্যার সারাবিশ্বের নিরীহ, নিপীড়িত, নির্যাতীত মেহনতী মানুষের অধিকার নিয়ে লেখালেখী করতেন। বিশেষত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র কতৃক নির্যাতীত, নিপীড়িত পাহাড়ের বাস্তভিটে হারানো জুম্ম আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে লেখালেখী করতেন।মুক্তমনের আলোকে বিশ্বের সকল সর্বহারা শ্রেণীর স্বপক্ষে ছিলো ইমতিয়াজ স্যারের শক্তিশালী সক্রিয় অবস্থান। অধিকারহীন, সর্বহারা, নির্যাতীত, নিপীড়িত গণমানুষের স্বপক্ষে অবস্থান করে তাদের স্বাধীন শক্তির প্রগতিশীল চেতনায় বাকশক্তি বিনিময় করতেন বলে আজ তাকে(ইমতিয়াজ স্যারকে) সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতা বলা হচ্ছে এবং ৫৭ ধারার বিকৃত কালো আইনে মামলা করা হয়েছে! পরিশেষে গ্রেফতার।

অধিকার, স্বাধীকারহীন মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বজ্রকন্ঠে বাক বিনিময় করা কী খুব দোষের(?) পরাধীনতার শেকলে বন্ধি থাকা জাতীর মুক্তির পক্ষশক্তির প্রগতিশীল আন্দোলনে সামিল হওয়া কী দোষের???প্রশ্ন সাপেক্ষ।

আসলেই আমরা একটা বিকৃত স্বাধীন সার্বভৌমত্বের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে বসবাস করছি! যা বলতেও প্রচুর ঘৃনা হয়। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অবস্থান যদি এই দানবিয় গতিধারার স্রোতে প্রবাহিত হয়, তারচেয়ে বড় লজ্জাকর বিষয় আর কী হতে পারে…!!! সাংবিধানিক আইনের বেহাল দশা, গণতন্ত্রের বিকৃত রূপ, রাজনীতির অনিয়মতান্ত্রিক পথচলা———– ব্লা ব্লা ব্লা  এসবের মধ্যে নয়(৯) মাসব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের লুন্ঠিত ইজ্জতের পবিত্র আত্মত্যাগ অবদান সীমাবদ্ধ।

দেশের সার্বভৌমত্ব পুরোটা গেছে এখন দানবদের রসাতলে।দেশে এখন ন্যায়ের অনুকূলে অনায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা চুড়ান্ত দোষের! সত্যর পক্ষে অবস্থান করে মুক্তমনের লেখালেখী করা দোষের – এই হচ্ছে স্বাধীন বাংলার গণতন্ত্রিক আইন।লজ্জা হয়,  চরম লজ্জা হয় নিজেকে একজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করতে।

পরিশেষে বলতে চাই, ৫৭ ধারার বিকৃত আইন বাতিল করা হোক এবং  বিশিষ্ট লেখক, ব্লগার ও আইনজীবি “ইমতিয়াজ মাহমুদ” স্যারকে অবিলম্বে দ্রুত নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়া হোক। মুক্তমনার জয় হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here