নারী জঙ্গি: জঙ্গিবাদের নয়াদিগন্ত

0
118

Md.Mustafizul Abedin

কিংস কলেজের ‘আন্তর্জাতিক মৌলবাদ এবং রাজনৈতিক সংঘাত অধ্যয়ন কেন্দ্রের’ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে পৃথিবীব্যাপী জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার ছকে নারীরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এখানে উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস নাগাদ ব্রিটেনের ৪১,৪৯০ জন বিদেশী নাগরিকের মধ্যে ৪,৭৬১ জন নারী ইরাক এবং সিরিয়াতে আইসিসের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ শতাংশ অর্থাৎ ৪৬৪০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

‘আন্তর্জাতিক মৌলবাদ এবং রাজনৈতিক সংঘাত অধ্যয়ন কেন্দ্রের’ ঊর্ধ্বতন গবেষক ডঃ জোয়ানা কুক এবং জিনা ভেল বলেন, ৮৫০ জন ব্রিটিশ নাগরিক ইরাক এবং সিরিয়াতে আইসিসে যোগ দিয়েছে এরমধ্যে ১৪৫ জন নারী এবং ৫০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। আইসিসের হয়ে যুদ্ধ করা ৪২৫ জন আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছে কিন্তু মাত্র দুইজন নারী এবং চারজন অপ্রাপ্তবয়স্কের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে আইসিস ফেরত এই বিপুল সংখ্যাটা লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে গেছে।

যেসব ব্রিটিশ নাগরিক আইসিসের হয়ে যুদ্ধ করে যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছে তাদেরকে বয়স বা লিঙ্গের ভিত্তিতে আলাদা করা সম্ভব হয়নি জোয়ানা কুক বলেন, যদিও ইরাক এবং সিরিয়াতে আইসিসের যুদ্ধরত বিদেশি যোদ্ধাদের মধ্যে ২৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক।

আমাদের মনে হয় কিছু নারী কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এই ঝুঁকিগুলো হতে পারে অনেকটা শারীরিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এবং আইসিসের দখলকৃত অঞ্চলে থাকার সময়ে তারা যে জঙ্গি প্রশিক্ষণ পেয়েছে সেগুলো তারা স্থানীয় নিরীহ মানুষ বা তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের উপর প্রয়োগ করে ফেলতে পারে বা তাদের অর্জিত প্রশিক্ষণ অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে।

আইসিসের অভ্যন্তরীণ বয়ানে অস্ত্র হাতে নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের তাগিদ উঠে এসেছে। যুদ্ধের মাত্রা ও পরিধি বাড়াতে নারীদেরকে অস্ত্র হাত তুলে নিতে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি নারীরা আইসিস পরিচালিত ফ্রান্স, মরক্কো, কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার ছকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে আইসিসে যোগ দেয়া নারীরাও সমান সম্ভাব্য জঙ্গি হুমকি।

প্রতিবেদনে প্রকাশ, দায়েশের সংস্পর্শে এবং বিভিন্ন দেশের জঙ্গির সহাবস্থানে দেখা যাচ্ছে ইসলামিক স্টেটের নারী এবং শিশু জঙ্গিরা ক্রমাগত সন্ত্রাসী হামলায় তাদের অংশগ্রহণ বেড়ে চলছে। নারী এবং শিশুদের নিয়ে তিন ধরণের আক্রমণভাগ তৈরি করা হয়েছে সেগুলো হলো: শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত জঙ্গিদল, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত জঙ্গিদল অথবা একজন নারী একাই জঙ্গি হামলা পরিচালন করবে।
২০১৬ সালের অক্টোবরে মরক্কোতে সেদেশের সংসদ নির্বাচনের সময় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার দায়ে ১০ জন নারীকে আটক করা হয় এবং তাদের মধ্যে চারজন অনলাইনে ইরাক এবং সিরিয়াতে জিহাদে অংশগ্রহণকারী আইসিস জঙ্গিকে বিয়ে করেছে।

গত বছর যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাবাহিনী লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। সেই পরিকল্পনাতে অংশগ্রহণকারী সবাই ছিল আইসিসের নারী সদস্য। তাদেরকে আটক করা হয় এবং তাদের শাস্তিও হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে।যুক্তরাজ্যের তরুণী সাফা বাউলার ইতিমধ্যে সিরিয়াতে আইসিসে যোগ দেয়া অস্ট্রেলিয়ার নারী সদস্যের কাছে কিছুটা মৌলবাদের দীক্ষা পায় আর সেটার পূর্ণতা পায় অনলাইনে আইসিসের জঙ্গিকে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে।

গবেষকগণ বলছেন, যখনি আইসিসের কথা মনে আসে তখনি দেখা যায় “কিছু মানুষ আইসিসের কালো পতাকা নাড়াচ্ছে, তারা যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করছে, অথবা কেউকে জবাই করে নৃশংসতার নাটক মঞ্চস্থ করছে।” এইসব দৃশ্য কোন বিশেষ পেশায় দক্ষ যেমন বিচারক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীদেরকে উদ্বুদ্ধ করে এবং তারা মনে করে যুদ্ধের ময়দানে তাদের উপস্থিতি দরকার। এক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ আইসিসের কার্যক্রমকে সমর্থন করে এবং আইসিসের লক্ষ্যকে নৈতিক এবং আইনগত ভিত্তি এনে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here